AC Land Office, Sadar Circle, Chittagong

ভূমিকা

  intro

সুপ্রাচীন কাল হতে ভূমি মানুষের প্রধান সম্বল বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। খাদ্যের নিশ্চয়তার পর পরই মানুষ নিজের নিজ ভিটার প্রতি মনোযোগী হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় অদ্যাবধি ভুমির সাথে মানুষের শিকড়ের টান জড়িয়ে আছে। ভূমি ব্যাবস্থাপনার ইতিহাস প্রাচীন ও জটিল। ভূমি ব্যাবস্থাপনা যতটা না জটিল তাঁর চেয়ে বেশি করে জটিল বানিয়ে রেখেছে এর সাথে জড়িত মানুষজন। আধুনিক বিশ্ব ব্যাবস্থায় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ও ডিজিটাল হওয়ার পথে এগিয়েছে অনেকদূর। কিন্তু আজো ভূমি ব্যাবস্থাপনা রয়ে গেছে মান্ধাতার আমলেই। কিন্তু অত্যন্ত আশার কথা হল এই যে বর্তমান সরকার ও ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি ব্যাবস্থাপনা আধুনিকায়নে ও ডিজিটাইজেশনে বদ্ধ পরিকর। ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপায়নে ডিজিটাল ভূমি প্রশাসন অত্যাবশ্যক। সার্বিক এই অনুকুল পরিবেশে ভূমি ব্যাবস্থাপনা আধুনিকায়নে দেশে প্রথমবারের মত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম। ভূমি মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক উৎসাহ ও সহযোগিতায় সদর সার্কেলের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব সামিউল মাসুদের সুযোগ্য নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নতুন যে ডিজিটাল মডেলটি তৈরি হয়েছে সেটি হতে পারে সারাদেশের ভূমি ব্যাবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল। প্রাথমিক এই মডেল টি নিয়ে এরই মাঝে বিভিন্ন উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে একটি সমন্বিত স্ট্যান্ডার্ড মডেল দাড় করানো সম্ভব! পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্য দিয়েই কল্যাণকর একটি ভূমি ব্যাবস্থাপনা সিস্টেম তৈরির ক্ষেত্রে সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রামের এ প্রচেষ্টা চলমান থাকবে। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে নিরন্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রামের ভুমিকা আরও জোরালো হবে এই আশা আছে। কিন্তু ভূমিসহ অন্যান্য অনেক বিদ্যমান সেবাপ্রদানের সরকারি নির্দেশনা, নিয়ম-কানুন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তথ্যপ্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের অভাব, প্রয়োজনীয় নিয়মিত বরাদ্দপ্রাপ্তি ইত্যাদির কারণে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাইজেশন এখনই বাস্তবায়ন করা দুরূহ। তবু সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম নিজস্ব যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে তা বিদ্যমান সিস্টেম ও আইন-কানুনকে অক্ষত রেখেই পাশাপাশি সেবাপ্রদানের পদ্ধতির প্রযোজ্য অংশে ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন করছে। এটিই সর্বজনগ্রাহ্য মডেল হবে, এটা আমরা আশা করি না, তবে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডিজিটাইজেশনের যে সূচনা হতে যাচ্ছে তার ধারাবাহিকতায় একদিন সত্যিই একটি সর্বজনগ্রাহ্য ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজড্ পদ্ধতি চালু হবে, মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে এবং সাধারণ জনগণ হাসিমুখে ভূমিসেবা গ্রহণ করবে-এটাই আমাদের চরম আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।

....................................................................................................................

পূর্বতন এসি ল্যান্ডের কথা

মাটির সাথে এ দেশের মানুষের নাড়ির সম্পর্ক। এক খন্ড জমি বাংলাদেশের মানুষের কত আপন তা জমি-জমার সাথে সংশ্লিষ্ট ও ভুক্তভোগী মাত্রই অবগত আছেন। ব্রিটিশ ভূ-ভারতের সময়কাল হতে জমি-জমা সম্পর্কিত আবেগ-অনুভূতি ঐতিহাসিকভাবে আরো ঘনীভূত হয়েছে। জমিদারি প্রথা, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিপীড়ন, নীলচাষ....এ শব্দগুলির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। বাংলার ইতিহাসের পরিক্রমায় সাধারণ মানুষের জমি-জমা নিয়ে বঞ্চনা, দুর্ভোগ আজ কালোত্তীর্ণ বিভিন্ন শব্দমালায় উপন্যাস কিংবা কবিতার অক্ষরে লিপিবদ্ধ। ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্টের মধ্যে দিয়ে প্রজা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষের জমির উপর স্বত্বপ্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ পার হলেও ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন পর্যন্ত সাধারণ জনগণকে অপেক্ষা করতে হয়েছে নিপীড়ণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ প্রণয়ণের মাধ্যমে রায়তি প্রজাগণ জমির মালিক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন যদিও সরকারই প্রকৃতপক্ষে সকল জমির নিরঙ্কুশ মালিক। তবে বিগত প্রায় ছয় দশকে ভূমি ব্যবস্থাপনা যতটা গতিশীল হবার কথা ততটা হয়েছে বলে মনে হয়না। এখনও মানুষ তার একখন্ড জমির মালিকানা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য সরকারি দপ্তরে দিনের পর দিন সময় ব্যয় করে থাকেন। এ কথা অনস্বীকার্য যে, সাম্প্রতিক কালে সরকারের সদিচ্ছা এবং তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে অনেক সেবাই সহজলভ্য হয়ে গেছে, তবে তা কতটুকু জনপ্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট হয়েছে তা ভাববার বিষয়।

বিসিএস (প্রশাসন) কাডারের কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে যোগদানের পর ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরো কতটা যুগোপযোগী করা যায় তা বিবেচনা করা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি। এর মধ্যে ভূমি অফিসে সর্বাধিক যে বিষয়গুলি মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকে তা চিহ্নিত করতে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণত নামজারি মামলা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ন প্রতিষ্ঠা, ভূমি অফিসের কিছু কর্মচারির যোগসাজস, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও প্রদানে গাফিলতি ইত্যাদি বিষয়গুলি প্রধান। সেবা প্রদান বা সার্ভিস ডেলিভারিকে কীভাবে আরো জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), চট্টগ্রাম মহোদয়ের পরামর্শক্রমে সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম প্রত্যেকটি নামজারি মামলা অনুমোদনের প্রতিটি পর্যায়ে সময় নির্ধারিতকরণ এবং তদনুযায়ী একটি ডেটাবেইজ সংরক্ষণ, অফিস ডিজিটাইজেশন, ইন্টারনেট সংযোগ, মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদনকারীর নিজের মোবাইলে স্ট্যাটাস আপডেট জানানো এবং ওয়েবসাইটেও হালনাগাদ তথ্য প্রদানের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিগত ২ মাস যাবৎ এ বিষয়ে কাজ করে আমরা আজকে জনগণের কাছে তাদের প্রত্যাশার সেবাদানের একটি ধাপ অতিক্রম করছি।

সকলকে আমাদের এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থেকে এ অফিস হতে সেবাগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। 

 

সুপ্রাচীন কাল হতে ভূমি মানুষের প্রধান সম্বল বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। খাদ্যের নিশ্চয়তার পর পরই মানুষ নিজের নিজ ভিটার প্রতি মনোযোগী হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় অদ্যাবধি ভুমির সাথে মানুষের শিকড়ের টান জড়িয়ে আছে। ভূমি ব্যাবস্থাপনার ইতিহাস প্রাচীন ও জটিল। ভূমি ব্যাবস্থাপনা যতটা না জটিল তাঁর চেয়ে বেশি করে জটিল বানিয়ে রেখেছে এর সাথে জড়িত মানুষজন। আধুনিক বিশ্ব ব্যাবস্থায় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ও ডিজিটাল হওয়ার পথে এগিয়েছে অনেকদূর। কিন্তু আজো ভূমি ব্যাবস্থাপনা রয়ে গেছে মান্ধাতার আমলেই। কিন্তু অত্যন্ত আশার কথা হল এই যে বর্তমান সরকার ও ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি ব্যাবস্থাপনা আধুনিকায়নে ও ডিজিটাইজেশনে বদ্ধ পরিকর। ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপায়নে ডিজিটাল ভূমি প্রশাসন অত্যাবশ্যক।
সার্বিক এই অনুকুল পরিবেশে ভূমি ব্যাবস্থাপনা আধুনিকায়নে দেশে প্রথমবারের মত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম। ভূমি মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক উৎসাহ ও সহযোগিতায় সদর সার্কেলের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব সামিউল মাসুদের সুযোগ্য নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নতুন যে ডিজিটাল মডেলটি তৈরি হয়েছে সেটি হতে পারে সারাদেশের ভূমি ব্যাবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল। প্রাথমিক এই মডেল টি নিয়ে এরই মাঝে বিভিন্ন উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে একটি সমন্বিত স্ট্যান্ডার্ড মডেল দাড় করানো সম্ভব!
পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্য দিয়েই কল্যাণকর একটি ভূমি ব্যাবস্থাপনা সিস্টেম তৈরির ক্ষেত্রে সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রামের এ প্রচেষ্টা চলমান থাকবে। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে নিরন্তর উদ্যোগের  অংশ হিসেবে সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রামের ভুমিকা আরও জোরালো হবে এই আশা আছে।  কিন্তু ভূমিসহ অন্যান্য অনেক বিদ্যমান সেবাপ্রদানের সরকারি নির্দেশনা, নিয়ম-কানুন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তথ্যপ্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের অভাব, প্রয়োজনীয় নিয়মিত বরাদ্দপ্রাপ্তি ইত্যাদির কারণে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাইজেশন এখনই বাস্তবায়ন করা দুরূহ। তবু সদর সার্কেল ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম নিজস্ব  যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে তা বিদ্যমান সিস্টেম ও আইন-কানুনকে অক্ষত রেখেই পাশাপাশি সেবাপ্রদানের পদ্ধতির প্রযোজ্য অংশে ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন করছে। এটিই সর্বজনগ্রাহ্য মডেল হবে, এটা আমরা আশা করি না, তবে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডিজিটাইজেশনের যে সূচনা হতে যাচ্ছে তার ধারাবাহিকতায় একদিন সত্যিই একটি সর্বজনগ্রাহ্য ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজড্ পদ্ধতি চালু হবে, মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে এবং সাধারণ জনগণ হাসিমুখে ভূমিসেবা গ্রহণ করবে-এটাই আমাদের চরম আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।